এই যে পৃথিবীতে প্রতি বছরই এক একটা নতুন নতুন দিবস যোগ হচ্ছে, তাতে কতটা লাভ হচ্ছে আমার বোধগম্য না। যেমন- মা দিবস বা বাবা দিবস উপলক্ষ্যে কোনো বিশেষ কিছু থাকা উচিত বলে আমার মনে হয় না। কারণ বাবা থাকে অন্তরে। তাকে স্মরণ করার জন্য, ভালোবাসার জন্য কোনো নির্ধারিত দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনই তাকে মনে পরে। তাকে ভালোবাসতে হয়। সন্তানের জীবনে বাবার সাথে একটু দুরত্ব থাকে যতটা ঘনিষ্ট থাকে মা’র সাথে। কারণ পরিবারের ভরণপোষণের কারণেই তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাইরে থাকতে হয়। তবে পরিবারের জন্যই তাকে এ কাজটি করতে হয়। আমারও বাবার সাথে এরকমই এক দুরত্ব ছিল। মা এবং বাবার ভালোবাসাকে আলাদাভাবে বর্ণনা করার চেষ্টা করা হলেও মূলত একে অপরের পরিপূরক। কোন শিশু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের ভালোবাসা যেমন দরকার তেমনভাবেই দরকার বাবার ভালোবাসা। আসলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য একটি ভালোবাসার পরিবেশ খুবই জরুরী। সন্তানকে পরম মমতায় বুকের সাথে ধরে রাখেন বাবা। বাবার মমতা আর ছায়ায় পরম নির্ভরতায় শিশু বড় হয়ে ওঠে। বাবা মা’র যে অবদান তা যেন একটি দিবসে সীমাবদ্ধ রেখে আমরা সংকীর্ণতা না দেখাই। কিন্তু সন্তান মা বাবার এই পরম মমত্বটুকুর দাম কমই দেয়। আজকাল অবশ্য সেই হার বাড়ছে। দেশে এখন গুণলে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা অনেক পাওয়া যাবে। এসব বৃদ্ধাশ্রমে যারা বাস করে তারাও কারো না কারো মা বাবা। এসব মা বাবা কোন দিবস বোঝে না। বোঝে কেবল সন্তানের মুখ। বছরের একটি দিন হলেও সন্তানকে কাছে পাবার আকুল প্রার্থনা থাকে মনে। কারো সন্তান দয়া করে সে চাওয়া পুরণ করে আবার কারো ভাগ্যে তাও জোটে না। তখন এসব দিবসকে বড় অসহায় মনে হয়। মনে হয় এসব দিবস একটা বড় ধরনের প্রহসন। অবাক ব্যাপার হলো এখানে এমন সব সন্তানদের মা বাবার দেখা মেলে যারা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নামী দামি মানুষ হিসেবে পরিচিত। যাদের জীবনের পুরো অবদানটাই মা বাবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মা বাবার অবদান ভুলে যায় এসব অকৃতজ্ঞ সন্তানরা। মাঝে মধ্যে পত্রিকার পাতায় কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার কোন রেল স্টেশন বা বাস ষ্ট্যান্ডে পরে থাকার খবর দেখি। তখন সত্যিকার অর্থে সেইসব সন্তানদের প্রতি এক ধরনের ঘৃণা জন্মে।
প্রতিটি দিবস পালনের পেছনে কিছু ইতিহাস থাকে। বাবা দিবস পালনের পেছনেও কিছু ইতিহাস রয়েছে। যতদুর জানা যায়, বিশে^র ৫২ টি দেশে বাবা দিবস পালন করা হয়। ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। এছাড়া নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৯১৩ সালে আমেরিকার সংসদে বাবা দিবসে ছুটির জন্য একটি বিল উত্থাপিত হয়। ১৯২৪ সালে সেসময়কার প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে সমর্থন দেন। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন বাবা দিবসে ছুটি ঘোষণা করেন। বিশে^র বেশিরভাগ দেশেই জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করা হয়। সে হিসেবে এবারের বাবা দিবস ঈদের আনন্দের সাথে মিলে গেছে। আমি জানি তারপরেও সকল সন্তান দিবসটিকে মনে রেখেছে। বিভিন্ন দিবস পালন এখন একটি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। সে হিসেবে বাবা দিবস বা মা দিবস পালন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে শুধু দিবস পালন নয় বরং সত্যিকারের ভালোবাসা শ্রদ্ধা দিয়ে দিনটি কতজন পালন করে সেটাই দেখার বিষয়।